জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাত হ্রাস কেপটাউনকে জলের অভাবের একটি নাটকীয় পরিস্থিতিতে ফেলে দেয়। শূন্যতম দিন-এর আসন্ন আগমনের ছায়ায় বাস করা জনসংখ্যা, প্রথমে অনুমান করে যে, 13 ই মে, 2018 হল সেই দিন যখন কলের জল শেষ হয়ে যাব । জরুরী অবস্থার রেশন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল, এবং লোকজনকে মারাত্মকভাবে জলের খরচ কমাতে হয়েছিল, যাতে প্রতিদিন একজন লোকের জন্য মাথাপিছু 13 গ্যালন জলের সীমা বেঁধে দেওয়া হয়। কেপটাউন প্রচণ্ড সীমাবদ্ধতা এবং অর্থনৈতিক পরিণামের অধীনে শূন্য দিনে পৌঁছাতে বিলম্ব করেছিল।

জল-দিন-শূন্যতম-সীমা-জল

কেপ টাউন-এর লোকজনের জন্য জল ব্যবহারের সীমা

এইটি শুধুই কেপ টাউনের সমস্যা নয়। এমনকি বিশ্বের বৃহত্তম স্বাদু জলের জলাধার আছে যে দেশে, ব্রাজিল, যেখানে এই গ্রহের স্বাদু জলের 12% জলাধার রয়েছে, সেই দেশও গত 5 বছরে, তাদের দ্বিতীয় জল সঙ্কটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এই সঙ্কটটি কেপটাউনের অনুরূপ, জলের চাহিদায় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বৃষ্টিপাতে ঘাটতির একটি পরিণাম। 2015 সালে, সাও পাওলো, বিশ্বের 10 টি সবচেয়ে জনবহুল শহরগুলির মধ্যে অন্যতম, তার প্রধান জলাধারের ক্ষমতা 4% কম ছিল।

এই বার্তাটি লেখাকালীন সময়ে, ব্রাজিলের আরেকটি শহর ইতিমধ্যে জল সঙ্কটের সম্মুখীন হয়েছে। প্রায় 3.5 মিলিয়ন বাসিন্দাদের নিয়ে, কুরিতিবা শহরটি, গত 50 বছরের সবচেয়ে খারাপ খরার মুখোমুখি হয়েছে। শহরটি জল রেশন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে: এতে সরবরাহ 36 ঘন্টা দেওয়া হবে ও 36 ঘন্টা বন্ধ থাকবে, এবং শীঘ্রই বৃষ্টি না হলে এই সীমাবদ্ধতা বাড়িয়ে 48 ঘন্টাও করা হতে পারে।

বিশ্বজুড়ে জলের অভাব

এই কেসগুলি সেই পরিস্থিতির শুধু কিছু উদাহরণ মাত্র, যেগুলির আসন্ন বছরগুলিতে আরও তীব্র হওয়ার প্রবণতা রয়েছে। বিশ্বের জনসংখ্যার প্রায় অর্ধেক এমন এলাকায় বাস করে, যেখান প্রতি বছরে অন্তত এক মাস জলের অভাবের অভিজ্ঞতা হওয়ার সম্ভাবনা আছে (Burek et al., 2016)। বড় শহরগুলির আশেপাশের নগরের উন্নয়ন জলের কষ্ট বৃদ্ধি করেছে, এবং পরবর্তী বছরগুলিতে জল নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জরুরী জল সম্পদ পরিচালনা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।

2050 সালের মধ্যে বিশ্বের জনসংখ্যা 7.6 বিলিয়ন থেকে বেড়ে 9.4 – 10.2 বিলিয়নে দাঁড়াবে, এবং সুতারাং জলের খরচ বাড়বে। জাতিসংঘের একটি প্রতিবেদন অনুসারে, বিশ্বব্যাপী জলের ব্যবহার বিগত 100 বছরে ছয়-গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, ও খরচের রীতিমালাতে রদবদলের ফলস্বরূপ প্রতি বছরে এটা প্রায় 1% হারে স্থিরভাবে বৃদ্ধি পাওয়া অব্যহত থাকবে।

জল-দিন-শূন্যতম-জল-সরবরাহ

জনসাধারণের জলের উৎসগুলিতে উচ্চ চাহিদা

শুধুমাত্র জলের ব্যবহারে বৃদ্ধিই জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা সংক্রান্ত সতর্কতা গড়ে তোলার কারণ হিসেবে যথেষ্ট। তবে, আরও একটি চাপ রয়েছে: জলবায়ুর পরিবর্তন। হাইড্রোলজিকাল ব্যবস্থার রীতিমালাগুলি তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে পরিবর্তন হওয়ার প্রবণতা দেখায়। বৃষ্টিপাতের রীতিমালা ওঠানামা করার প্রভাবগুলি ইতিমধ্যেই বোঝা যাচ্ছে এবং অনুমান করা হয় যে, আসন্ন বছরগুলিতে, গুরুতর খরা আরও ঘনঘন দেখা যাবে। জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে 2050 সালের মধ্যে 5 বিলিয়নের চেয়েও বেশি মানুষ জলের অভাবে ভুগতে পারেন (জাতিসংঘ, 2019)।

জাতিসংঘের অনুমান অনুসারে, জলবায়ুর পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, এবং মানুষের আচরণের প্রভাবগুলি বিবেচনা করলে, 2030 সালের মধ্যে জলের চাহিদা সরবরাহের চেয়ে 40% বেশি হবে

পরবর্তী কয়েক বছরে সাও পাওলো-এর জল শেষ হয়ে যেতে পারে, কিন্তু, শুধুমাত্র এই শহরটির ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য নয়া। জল সঙ্কট বাঙ্গালোর, বেইজিং, কায়রো, জাকার্তা, মস্কো, ইস্তানবুল, মেক্সিকো সিটি, লন্ডন, টোকিও, ও মায়ামি-এর মত শহরগুলির উপর আঘাত করবে।

জলের অভাবের সাথে আমরা কিভাবে মোকাবিলা করবো?

জলের ঘাটতি নিয়ে কথা বলার দুটি উপায় আছে: সঙ্কট সামলানো বা নতুন সঙ্কট ঘটা রোধ করা।

একটি চলমান জল সঙ্কটের সময়, রেশন ব্যবস্থার মাধ্যমে খরচ কম করার জরুরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বন্ধ করে দিতে হবে। কেপটাউন গাড়ি ধোয়ার কেন্দ্রগুলির কাজ নিষিদ্ধ করেছিল, যার ফলে বেকারত্ব দেখা দেয়। কৃষিকাজ এবং এমনকি কারখানাগুলির থেকে উৎপাদন শৃঙ্খলগুলি জলের ঘাটতির কারণে সীমিত উৎপাদনের ঝুঁকিতে রয়েছে। জল সঙ্কট অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জল বিবাদ, এবং মানুষের স্বাস্থ্যের প্রতি ঝুঁকি নিয়ে আসতে পারে

কেপ টাউনের নাগরিকদের স্নান করা এবং ঘরবাড়ি পরিষ্কার করার মধ্যে যে কোন একটি বেছে নিতে হয়েছিল। সর্বোপরি, যেহেতু সঙ্কটটি ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, সুতরাং, যতটুকু জল অবশিষ্ট রয়েছে, তার পরিমাণ সংরক্ষণ করতে জলের খরচ নিয়ন্ত্রণ সীমিত রাখার ব্যবস্থা করা হয়।

অনুমান ভাল নয়, কিন্তু ইতিমধ্যে সারা বিশ্ব জুড়ে অন্য শূন্য দিন এড়িয়ে যাওয়ায় সাহায্য করতে পারে এমন প্রযুক্তি অনেক আছে যা জলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।

শূন্য দিন বলতে কি বোঝায় সেই সম্পর্কে আরও জানতে ভিডিওটি দেখুন▶️

জাতিসংঘের অনুমান অনুযায়ী, 2030 সালের মধ্যে, জলবায়ু পরিবর্তন, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, এবং মানুষের আচরণের সম্মিলিত প্রভাবের ফলে, জলের চাহিদা সরবরাহের চেয়ে 40% বেশি হবে

Elisa Stefanপরিবেশ ইঞ্জিনিয়ার এবং গবেষক জল সম্পদ পরিচালনা বিশেষজ্ঞ

শৌচ পরিকাঠামো উন্নত করে এবং বিতরণ ব্যবস্থায় অপচয় হ্রাস করে, তার পাশাপাশি বৃষ্টির জল পরিচালনার জন্য প্রাকৃতিক পরিকাঠামো উন্নত করে, এবং জল ব্যবস্থার পর্যবেক্ষণ উন্নত করার মাধ্যমে জল অপসারণ ব্যবস্থা আপডেট করার পদক্ষেপ গ্রহণ করার মাধ্যমে জল সঞ্চয়ের পদক্ষেপ গ্রহণ করে এখন নতুন জল সঙ্কট এড়ানো সম্ভব।

আরও কম ওয়াটার ফুটপ্রিন্টের সাথে পণ্য ভোগ করা বেছে নিয়ে, বৃষ্টির জল ধরার ব্যবস্থা লাগিয়ে, এবং বাড়িতে জল আবার ব্যবহার করে লোকজন হয়ত পরিবারের জলের খরচও হ্রাস করতে পারে। উৎপাদন এবং কৃষিকাজে জন ব্যবহারকারীরা পুনুরায় ব্যবহার করার প্রযুক্তি বাস্তবায়ন করে এবং কাজ করে, জল নষ্ট হওয়ার সমাধান করে, জলের ব্যবহার অনেকটাই হ্রাস করতে পারে, কিন্তু তাদের সেইসব বাস্তবায়নের পদক্ষেপগুলি ঠিক এখনই শুরু করতে হবে।

ভবিষ্যতের জল নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে গ্রাহক ও সিদ্ধান্ত-গ্রহণকারীদের মধ্যে একটি মিলিত পদ্ধতিতে জল সম্পদ ব্যবস্থাপনা সম্পন্ন করতে হবে। শূন্য দিন এড়ানোর উদ্দেশ্যে, এমন সব বিভিন্ন প্রযুক্তি যা জল-সংক্রান্ত ডেটা সনাক্ত করতে পারে এবং সিদ্ধান্তের জন্য সেরা কৌশল সনাক্ত করতে পারে সেগুলি বাস্তবায়ন করাই সবচেয়ে ভাল। সচেতন গ্রাহকদের শিক্ষাদান করে আমাদেরকে স্মার্ট শহরে রুপান্তরিত হতে হবে, এবং জল সম্পদ কার্যকরভাবে ব্যবস্থাপনা করার প্রযুক্তি গড়ে তুলতে হবে।