এই প্রবন্ধের শিরোনাম ফরাসী রসায়নবিদ Antoine Lavoisier-এর বিখ্যাত বাক্যটিকে অন্যভাবে ব্যক্ত করে যা পাওয়া যায় তাঁর লিখিত “ল্য অব কনজারভেশন অব মাস”-এ। তিনি বলেন যে, রাসায়নিক বিক্রিয়াতে ভর তৈরী বা নষ্ট করা যায় না। এবং জলের সঙ্গেও একইরকম কিছু একটা ঘটে। রুপান্তরের এই প্রক্রিয়াটি হাইড্রোলজিকাল চক্র হিসাবে পরিচিত।

হাইড্রোলজিকাল চক্র

জল এমন একটি বস্তু, যার অণুতে দুটি হাইড্রোজেন ও একটি অক্সিজেন (H2O) পরমাণু রয়েছে। এর তিনটি অবস্থা রয়েছে: কঠিন, তরল ও গ্যাসীয়। আমাদের গ্রহে বেশিরভাগ প্রাণের উৎপত্তি ও বেঁচে থাকার জন্য জল অত্যাবশ্যক। এই প্রক্রিয়ার সময় এটি অসংখ্য রুপান্তরের মধ্য দিয়ে যায় এবং ক্রমাগত পরিবর্তিত হতে থাকে।

সৌরশক্তি জলকে বাষ্পীভূত করে। একবার এটি ঘনীভূত হয়ে গেলে, মধ্যাকর্ষণের ফলে এটি বৃষ্টি, বরফ বা শিলাবৃষ্টির আকারে অধঃক্ষিপ্ত হয়। এটি একটি ক্রমাগত গতিবিধি সৃষ্টি করে: হাইড্রোলজিকাল চক্র

সংরক্ষণ এবং প্রবাহ

এই হাইড্রোলিজিকাল চক্রের দুটি প্রধান প্রক্রিয়া রয়েছে: প্রথমটি হল জল সংরক্ষণ। দ্বিতীয়টি হল, একটি সংরক্ষণের থেকে অপরটিতে প্রবাহিত হওয়া। তরল আকারে সংরক্ষণের কিছু উদাহরণ হল, সমুদ্র, হ্রদ, জলাশয়, মেঘ-হ্যাঁ, মেঘ! যদিও বেশিরভাগ মানুষই মনে করেন যে তারা জলীয় বাষ্প দিয়ে গঠিত, তবুও তাদের মধ্যে আসলে তরল অবস্থায় প্রচুর ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র বিন্দু কণা রয়েছে। কঠিন অবস্থায়, হিমবাহ এবং মৌসুমি তুষার জল সংগ্রহ করে। অবশেষে, গ্যাসীয় অবস্থায়, বায়ুমণ্ডল জল সঞ্চয় করে।

নিম্নলিখিত শতাংশগুলি বিভিন্ন সংরক্ষণের অবস্থায় জলের বন্টনকে বর্ণনা করে:

আমরা জানি এই গ্রহে প্রচুর পরিমাণে জল রয়েছে। তবে, মাত্র ক্ষুদ্র শতাংশ জলই বিশাল সংখ্যক প্রজাতিকে সহায়তা করে এবং জীববৈচিত্র্য প্রদান করে।

জল-চক্র-বিতরণ-শতাংশ

জল বন্টন

অন্য দিকে, প্রবাহ জল কিভাবে একটি সংরক্ষণ চক্র থেকে অন্যটিতে যায়, তা বর্ণনা করে। কিছু গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হল:

  • ঘনীভবন: যখন জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে উঠে যায় সেটা ঠান্ডা হয় এবং ঘনীভবনের মাধ্যমে তরলে পরিণত হয়।
  • অধঃক্ষেপণ : ঘনিভবনের মাধ্যমে, জলীয় বাষ্প ক্ষুদ্রাতি ক্ষুদ্র বিন্দু কণায় পরিণত হয় যা, তার পরে, মেঘ হয়ে যায়। সেখান থেকে, জল তরল বা কঠিন আকারে অধঃক্ষিপ্ত হতে পারে।
  • বাষ্পীভবন ও জলীয়বাষ্পাকারে নির্গমন: বড় পৃষ্ঠে সংরক্ষিত তরল জল সৌরশক্তির ফলে বাষ্পে পরিণত হওয়ার প্রবণতা দেখা যায়। জীবন্ত প্রাণীরা শ্বাস নেওয়ার সময় জলীয় বাষ্প তৈরী করে, একটি ঘটনা যাকে বলা হয় জলীয়বাষ্পাকারে নির্গমন।
  • অনুপ্রবেশ: পৃথিবীর উপর পতিত জল মাটিতে অনুপ্রবেশ করে। উদ্ভিদ একটি অংশ শোষণ করে, অন্য অংশ বাষ্পীভূত হয়ে যায়, এবং বাকিটা অনুস্রবনের কারণে জলাশয়েে চলে যায়।
  • নিকাশ: জমি একবার সম্পৃক্ত হয়ে গেলে, জল মাধ্যাকর্ষণের প্রভাবের ফলে জমির মধ্য দিয়ে গা বেয়ে প্রবাহিত হওয়ার প্রবণতা দেখায়, আর নদী গঠন করে।
  • গলন: মৌসুমি বরফের গলনের ফলে জলের প্রবাহ তৈরী হয়।

জল গড় যে সময়টা এই সংরক্ষণ চক্রে অতিবাহিত করে তাকে বলা হয় স্থিত সময়। এটি কয়েক দিন থেকে কয়েক হাজার বছরে পরিবর্তিত হয়।

 

স্থিত সময়:

মাত্র ক্ষুদ্র শতাংশ জলই বিশাল সংখ্যক প্রজাতিকে সহায়তা করে এবং জীববৈচিত্র্য প্রদান করে।

QatiumIntelligent Assistant ( বুধিমান সহায়ককারী)

জলের ভারসাম্য

যদিও সারা বিশ্ব জুড়ে প্রক্রিয়াটি প্রথাগত, তবুও উপ-প্রক্রিয়ার মানদণ্ডের উপর নির্ভর করে, তারা জল সরবরাহ করতে বা ধরে রাখতে পারে। সাধারণভাবে, একটি প্রদত্ত মুহুর্তে জলের ভারসাম্য আগের অবস্থা, ও ইনপুটের পরিমাণের থেকে, সেই সময়কালে প্রক্রিয়ায় সরবরাহকে বিয়োগ দিয়ে যা পাওয়া যায় সেটি বিবেচনা করা হয়। এটি টাকা-পয়সার সাথে যা ঘটে তার অনুরূপ: একটি নির্দিষ্ট সময়ে, একটি প্রদত্ত অ্যাকাউন্টের ব্যালেন্স জানতে; আপনাকে আগের ব্যালেন্স এবং সেই সময়কালে ঘটা ব্যয় ও আয় জানতে হবে।

জলের মান

এই পরিস্থিতি অনুযায়ী, জল ঘাটতি সমস্যা হওয়া কিভাবে সম্ভব? আংশিক উত্তর হল, এই যে সহজলভ্য জলের মাত্র সামান্য অংশই জীবনের বেঁচে থাকার জন্য প্রযোজ্য। প্রবাহ প্রক্রিয়ার সময়, এটি দ্রবীভূত বস্তু বা জমে যাওয়া কঠিনের আকারে বাহিত হয়, যার ফলে এটি পান করার জন্য অনুপযুক্ত হয়ে পড়ে।

অধিকন্তু, জলের মান আংশিকভাবে প্রাকৃতিক প্রক্রিয়ার উপরও নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, এইগুলি তৈরী হয়, মাটিতে খনিজের ক্ষয়ের ফলে, জৈবিক পদার্থের পরিবহনের ফলে, জীবন্ত প্রাণী, জলীয় পরিবেশে ভৌত, রাসায়নিক ও জৈব প্রক্রিয়াগুলি, ইত্যাদির জলীয়বাষ্পাকারে নির্গমনের ফলে।

এই স্বল্প সম্পদের মান মানুষের আচরণের উপরও অনেকটা নির্ভর করে। এই কারণে, আমাদের একে রক্ষা করতে হবে। এটি সকলের দায়িত্ব।